মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০১৪

দুপুর

আবার পানিটা কে কাঁপাল ? ধুত্তরি ! ফ্রকের বেল্টটা পানিতে পড়ার আর সময় পেল না, আর একটু...আর একটু বাকি। দু' দুটো মাছ একসাথে। চিংড়ির পোনাটা আবার লাফ দিবে নাতো? গতকাল একেবারে শেষ মুহূর্তে চিংড়িটা লাফিয়ে গেল।
হাতদুটো প্রায় পানির উপরে উঠিয়ে ফেলেছি। এখন শুধু পানিটুকু বের করে দেবার পালা। মাছ দুটো এখন ও আছে। উপুর হয়ে সমস্ত পুকুর ঘুরে এই পাড়ে কিছু মাছ দেখা গেছে। ভাইয়ার কাছ থেকে শিখেছি কেমন করে হাত দুটো এক করে বেড় দিয়ে আস্তে আস্তে  উপরে উঠাতে হয়। পানিটা সরে গেলে ঝুপ করে মাছ গুলো আটকানো লাগে। প্রথম প্রথম একদমই পারতাম না। শেষ মুহূর্তে মাছগুলু লাফিয়ে চলে যেত। এখন পারি। কাল ও দুইটা মাছ ধরেছি। একটা তো প্রায় ইঞ্চি দু'য়েক হবে। বিকেল বেলা ভাইয়াকে দেখাতে নিয়ে গিয়ে দেখি মরে ভেসে আছে। কত বড় গর্ত করে পানি দিয়ে জিইয়ে রাখলাম, তাও মরল! আজ কি হবে কে জানে!
যাহ্‌! চিংড়িটা আজও চলে গেল। তাতে কি, বেলে মাছটা এখন ও আছে। ধরেই ফেললাম। এখন পানিতে আটকানো। বালি দিয়ে চারপাশে বেড় দিতে দিতে মাছটা আবার মরে যাবেনা তো? ছেড়ে দিব? এতো কষ্ট করে ধরলাম...
দুপুর বেলা সবাই কেন যে ঘুমায়! আমার একটুও ভালো লাগেনা। বড়' পা না থাকলে ঘুমানোর ঝামেলা নেই। আম্মা ঘুমালে বাগানের দেয়াল ডিঙিয়ে  বের হওয়া ব্যাপার না। বড় আপা বড্ড যন্ত্রণা করে।সারাক্ষন পাহারা দেয়। বের হবার সুযোগ নাই।
আজ বের হতে অবশ্য ঝামেলা হয়নি। ফিরোজা কে ডাকব?খেলতে? ওরাও অবশ্য ঘুমায়। গিয়ে দেখবো নাকি? মনে হচ্ছে ঘুমুচ্ছে। জানালা অল্প ফাক করে দেখি আসলেই ঘুমুচ্ছে। দু'বার ডাকলাম, তাও উঠলো না। ওর মা দেখলে বকা লাগাবে।কই যাই? ভাল্লাগেনা...
আমেনাদের বাসায় যাওয়া যেতে পারে। ওরা দুপুরে ঘুমায় না, হাঁসের খাবারের জন্য শামুক টোকাতে যায়। যাব নাকি?
বেগুনি ফুলটা কি ফুল? আগেত দেখিনি। কাল রান্না বাটি খেলার সময় এই ফুলটা নেয়া লাগবে মনে করে।কি সুন্দর খাবার বানানো যাবে। কাউ কে দেখাব না। পাতাটা পিঠা বানানো যাবে। কি সুন্দর করে সাইড কাটা।
ভর দুপুরে রোদে ভীষণ গরম লাগছে। আকাশটা কি সুন্দর, এই মেঘ গুলোর কি মজা! কই যায় এরা? কোত্থেকে আসে?
মেঘ হলে দারুন হতো। দুপুরে আমার সাথে কেউ খেলেনা। আমার ভাল্লাগেনা। পুকুরে মাছ ধরেও মজা নাই।আমার সাথে কে খেলবে?কখন বিকেল হবে? 

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৪

ঢাকার 'হাটা বাবা" । রহস্য নাকি ভণ্ডামি?

আজ সকালেই ড্রাইভারের কাছে খবর শুনলাম, ঢাকায় হাটা বাবা নামে যে লোকটা হেঁটে বেড়াতো আজ দুদিন হয় মারা গেছে। আমিও বেশ কয়েকবার দেখেছি। ব্যস্ত রাস্তায় একদল লোক নিয়ে বয়স্ক এক লোক হেঁটে চলেছেন। ধুলি ধুসর গা, ময়লা, অনেকটা নোংরাই বলা চলে।
অনেক ধরনের মানুষ তার পেছনে পেছনে হাঁটত। ছেলে, বুড়ো, মহিলা, যুবক...অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই বিশ্বাস করত এই "হাটা বাবা"র কিছু আলাদা ক্ষমতা ছিল। তিনি নাকি অনেক কম কথা বলতেন, এবং হুট করেই একদিন কাউকে ডেকে বলতেন তোর মনের ইচ্ছা পুরন হবে। লোকজন তাতেই খুশি। তারা ভাবত উনি বললেই হবে।
এই হাটা বাবা নিয়ে লোকজনের বিরক্তি ও কম ছিল না। নোংরা গন্ধে কাছেই নাকি যাওয়া যেত না। তবুও তিনি হাটা বাবা। অনেকে পরম শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ ও করবেন।

প্রকৃতি অনেক রহস্য ধারন করে, সেটাই তার ধর্ম। মানুষ তার প্রাত্যহিক ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে চায়, যখন হতাশা তাকে পেয়ে বসে, তখন সে বিশ্বাস করতে শুরু করে কোন এক অলৌকিক রহস্যময় কিছু তার সমাধান করে দেবে। এই প্রত্যাশায় সে যা পায় তাই খড় কুটোর মত আকরে ধরে।

 হাটা বাবা হয়ত তেমন ই এক আকাঙ্ক্ষার নাম। এমন একটা ময়লা লোকের  পেছনে এতো গুলো মানুষ কেন হাটে, আমার খুব জানতে ইচ্ছে হত। আসলেই কি কোন ক্ষমতা স্রস্টা তাকে দিয়েছেন?

জুলফিকার আলি হায়দার একসময় স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। তার তিনপুত্রের কথা ও শুনা যায়। একসময় তিনি পীর হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকেন। গোসল ,নামায, স্বাভাবিক জীবন সব বাদ দিয়ে কেবল হেঁটে চলা... কেন হাঁটতেন? মানসিক বিকার নিয়ে কোন লোভী মানুষের বেবসার কারনে তার এই পীর খেতাব কিনা, তাই বা কে জানে! এতগুলা মানুষ, তাদের বুদ্ধি কোন পর্যায়ে? কেন তার অনুসারী? কোন ধর্ম তিনি মানতেন? কিভাবে মুক্তি? ইহ লৌকিক নাকি পর লৌকিক? কোন মুক্তি তিনি তার ভক্তদের দেবার আশ্বাস দিতেন?
ঢাকার রাস্তায় "হাটা বাবা"। ছবিঃ সংগৃহীত।

খুব খোঁজ খবর করার সুযোগ ও পাইনি। তার মৃত্যুতে কিছু লোকের খুব বেবসা হবে বুঝা যাচ্ছে।  কিন্তু সে কেন ভোগ  করেনি এই সম্পদ?
মানুষ কেন খুজে এই আধ্যাত্মবাদ?
কিভাবে পায় এর দেখা?
এই প্রশ্ন গুলো নতুন করে আবার উঁকি দিয়েছে আমার মনে।